দেশের পুঁজিবাজারে প্রায় দেড় বছর পর গতকাল সূচকে রেকর্ড উত্থান হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ২০০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির লেনদেন ছাড়িয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি। এর আগে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বতী সরকার শপথ নেয়ার দিন সূচক ৩০০ পয়েন্টের বেশি বেড়েছিল।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। দিনশেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৬০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ৫৯ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১২৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৯৭ পয়েন্ট।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ায় বাজার অনুকূলে থাকবে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। তাদের আত্মবিশ্বাসের ফলে বাজারে বড় উত্থান দেখা দিয়েছে। গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সিটি ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৭৯০ কোটি ১৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন বেড়েছে ৬১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯৪টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৪টির, কমেছে ২৬টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ৪টির।
গতকাল ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০ শতাংশ দর বেড়েছে ওয়ান ব্যাংক পিএলসির। এছাড়া মুন্নু ফ্যাব্রিকসের ৯ দশমিক ৮৭, লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের ৯ দশমিক ৮৬, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের ৯ দশমিক ৮৪ ও ড্যাফোডিল কম্পিউটারসের ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ দর বেড়েছে। অন্যদিকে ডিএসইতে গতকাল সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ দর কমেছে ইসলামী ব্যাংকের। এছাড়া জিলবাংলা সুগারের ৩ দশমিক ৯৫, জুট স্পিনার্সের ৩ দশমিক ৭৮, এপেক্স স্পিনিংয়ের ৩ দশমিক ৬৫ ও ইসলামিক ফাইন্যান্সের ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ দর কমেছে।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক। এছাড়া দ্বিতীয় স্থানে ঢাকা ব্যাংক, তৃতীয় স্থানে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, চতুর্থ স্থানে ব্র্যাক ব্যাংক এবং পঞ্চম স্থানে ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ দখলে নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। বস্ত্র খাত ১২ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৭ দশমিক ২০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে। এছাড়া ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৬ দশমিক ৪, সিরামিক খাতে ৬, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৫ দশমিক ৪ এবং সিমেন্ট খাতে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ২৮২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৫৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৪৮৪ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৪৭ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২২০টির, কমেছে ১৭টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ১০টির। গতকাল সিএসইতে ২৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।